১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ


শরতের নৌ ভ্রমণ –

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ
দিনপঞ্জিতে বাংলা ১৪২৮ সন চলমান। বাংলা সনের বারো মাসে ছয় ঋতু। সে হিসেবে ভাদ্র-আশ্বিন এ দু’মাস বাংলার প্রকৃতি ও জীবনে শরৎ ঋতু মানে শরৎকাল।

ভাদ্রের শেষ। আশ্বিনের আজ নয় তারিখ। বুঝাই যাচ্ছে শরতের দিন ধীরেধীরে শেষ হচ্ছে আর প্রকৃতিতে আগমনী সংকেত দিচ্ছে হেমন্তকাল।

বাংলার মানুষের জীবনে শরতের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর মুগ্ধতার কথা বলেছি এর আগেও সেইদিকে না গিয়ে আজ বলবো একটি “শরতের নৌ-ভ্রমন” এর গল্প।

বছরখানিক আগে ফেনীতে আত্মপ্রকাশ করছে ‘ঠিকানা ট্রাভেলস’ নামের ভ্রমণ পিয়াসুদের একটা সংগঠন। অবাণিজ্যিক এই সংগঠনের উদ্দেশ্যে নিজেরা, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন মিলে ফেনীর আশেপাশে কিংবা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণে বের হওয়া। গতবছর সংগঠনের ব্যানারে প্রায় ১৫০ জন পরস্পরের পরিচিত বিভিন্ন পেশার বন্ধু-বান্ধব মিলে তিনটি ইঞ্জিন চালিত ভাড়া নৌকা যোগে লেমুয়া ব্রিজের নিচ থেকে সমুদ্রস্নাত সোনাগাজী উপজেলার খোয়াজচরের মুহুরীপজেক্ট বা মুহুরীসেচপ্রকল্পে আনন্দময় নৌ-ভ্রমণ করেছিলো।

সেই ধারাবাহিকতায় ‘ঠিকানা ট্রাভেলস” এই বছর ইংরেজি ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রি. বাংলা ১৪২৮ সনের ৯ আশ্বিন আয়োজন করে আরেকটি নৌ-ভ্রমণ। করোনোর প্রকোপ এখনো পুরোপুরিভাবে শেষ না হওয়ায় এইবার সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় চল্লিশ জনের। শেষ দিকে অনুরোধ রক্ষায় তা পৌঁছায় পঞ্চাশ জনে। এইবারের ভ্রমণ আয়োজনের পিছনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন ফুলগাজী উপজেলার সংগঠক ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। তাকে সহযোগিতা করেছে ঠিকানার অন্যান্য সদস্যরা। উল্লেখযোগ্য ছিলেন সংগঠক ও নাট্যনির্মাতা এফআই ফিরোজী, কবি হেলাল শাহাদাত, সংগঠক ও সাংবাদিক মোঃ আরিফুর রহমান, সংগঠক তোফায়েল ইসলাম মিলন প্রমুখ।

দৈনিক স্টারলাইন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাংবাদিক জসিম মাহমুদ তার পরিবারবর্গ নিয়ে এই নৌ-ভ্রমণে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, লক্ষ্মীপুর থেকে সাংবাদিক আতোয়ার মনির, সোনাগাজী থেকে সাংবাদিক সৈয়দ মনির আহমদ, সাংবাদিক হানিফ গাজী, রোটারিয়ান তোফায়েল আহমেদ লিটন, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী, শিক্ষিকা আয়েশা সিদ্দিকা।

কবি সাইরাস চৌধুরী, কবি আবদুল ওয়াদুদ, কবি ফরিদা আক্তার মায়া, কবি নাসরিন জাহান রিনা, লেখক ও সংগঠক মোঃ আবদুস সালাম ফরায়জী।

শিল্পী ডাঃ ইসহাক চৌধুরী, শিল্পী কনা, ফটোগ্রাফার চন্দন বণিক, সুমন চৌধুরী, সোহেল গাজী, আরিফুল, মাহজারুল ইসলাম, ইরফান মিয়াজী, পাপ্পু করিম, রেদোয়ান ও অন্যান্যরা।

সকাল ৭:৩০ থেকে ৯ঃ০০ টার মধ্যে সবাই ফেনী ট্রাংক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উপস্থিত হয়ে টাউন সার্ভিস বাস যোগে অদূরে লেমুয়াবাজার নামে৷ তারপর লেমুয়াবাজার ব্রিজের নিচ থেকে সকাল ১০ টায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে সোনাগাজী উপজেলার খোয়াজচরের মুহুরীপ্রজক্টের উদ্দেশ্যে ‘শরতের নৌ-ভ্রমণ’ শুরু হয়।

ফেনীর শহরের কোলাহল ছাপিয়ে নৌকা এগিয়ে যাচ্ছে…চারদিকের দৃশ্যটা সুন্দর! আকাশে রোদ্র-ছায়ার খেলা। মেঘের ভেলা। নদীর পানিতে সুর্য কিরণের আলো-ছায়া। দুপাশে গাছের সারি। নদীর বুকে ভেসে যাচ্ছে নৌকা। ইঞ্জিনচালিত। টট্টর টট্টর টট্টর…..

নদীপথের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পসরা উপভোগ করতে করতে প্রায় বেলা ১২ টায় নৌকো মুহুরীপ্রজেক্ট পৌঁছে। সবাই ধীরে ধীরে নামেন। প্রাণের আনন্দে মেতে ওঠেন।

যেহেতু জুমাবার সেহেতু যে যার মতো ঘোরাঘুরি করে জুমার নামাজ শেষে উন্নতমানের দুপুরের খাবার গ্রহণ করে আবার গল্প-আড্ডায় মজে ওঠেন।

বিকেল তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবাই নিজ নিজ পরিচিত, ভ্রমণের অনুভূতি বিনিময়, গান, ছড়া-কবিতা আবৃত্তি, বিভিন্ন খেলাধুলায় সবাই অংশগ্রহণ করেন। লাফা খেলায় অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য সময়ের গর্জন সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান, কবি সাইরাস চৌধুরী ও জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর সকলের বাহবা ও প্রসংশা লাভ করতে সক্ষম হন।

চা-নাস্তা, গ্রুপ ছবি ও আসরের নামাজ আদায় করে সবাই বিকেল পাঁচটায় আবার নৌকা ওঠেন। লেমুয়া বাজার অভিমুখে নৌকা ছাড়ে। ফিরতি পথে নদীতে বৃষ্টি ঝিরিঝিরি ফোঁটা, আকাশের রংধনুর মায়া, মেঘের ভেলা, মিষ্টি বাতাস, ছোটো ছোটো মাছ ধরার নৌকো, সূর্যাস্তের মোহনীয় দৃশ্যে। শেষ বিকেলের অপরূপা সৌন্দর্যের পসরা সকলকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে। যা লেখার অক্ষরে বর্ণনা করা দুঃসাধ্য।

ফিরতে ফিরতে অন্ধকার নেমে আসে। পাখিরা নীড়ে ফিরে যাচ্ছে। নদীর ধারে জোনাকিরা আস্তে আস্তে ভীড় করছে। মাগরিবের আযান হচ্ছে। অনেকেই নৌকোতেই মাগরিব নামায আদায় করে নেন। রাতের প্রকৃতি, দুইধারের অপরূপা মুগ্ধতা প্রতিটি ক্ষণেই দেহ-মনে আবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছি সীমাহীন। কেউ কেউ মনের সুখ গান ধরেছে।

অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় নৌকা লেমুয়াবাজার নদীর ঘাটে ভীড়ে। সবাই এখনো ঘোরের ভিতর। ধীরে ধীরে নৌকা থেকে নেমে লেমুয়া বাজার আসে সবাই। সেখানে নির্ধারিত আগের সেই টাউন সার্ভিস বাসযোগে সবাই ফেনী শহরে আসে এবং যে যার নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। আর পিছনে পড়ে থাকে কেবল একটি অসাধারণ সৌন্দর্যমন্ডিত দিনের গল্প, শরতের নৌ-ভ্রমণের গল্প যেখানে পারস্পরিক আনন্দ ছিলো, ভালোবাসা ছিলো, ছিলো জীবন ও প্রকৃতি থেকে নেয়া বাস্তবতার অমূল্য জ্ঞান। এমন দিনটি কে ভুলতে চাইবে? তাই, শরতের এমন নৌ-ভ্রমণের দিন ফিরে আসুক বারেবারে আমাদের জীবনের উঠোনে।

ব্রেকিং নিউজ :
অগ্রণী ব্লাড ফাউন্ডেশন’র কার্যকরী কমিটি গঠন শহীদ পাটোয়ারী সভাপতি, শেখ ফরিদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ফরহাদ নগর ভোর বাজারের জুয়েলারী ব্যবসায়ী সোহাগ কোটি টাকা নিয়ে উধাও – ফেনী সিটি গার্লস হাই স্কুলের কৃতি সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ ফেনীর বোগদাদীয়ায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত- বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় আলোকিত ফেনী বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন- ফেনীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিশুদ্ধ বায়ুর প্রসারে জলবায়ু সংলাপ- সোনাগাজী লাইনে বাড়তি সিএনজি ভাড়া আদায়ের সংবাদে তাৎক্ষণিক ব্যবস্হা নিলেন চেয়ারম্যান বাদল ওমরাহ পালনে সৌদি যাচ্ছেন ফেনীর সাংবাদিক শাহজালাল ভূঞা ফেনীতে উপজেলা দিবস এ জাতীয় পার্টির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির ফেনীতে এক আঙ্গীনায় মসজিদ -মন্দির, সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন